সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র মসজিদ আল হারামের (গ্র্যান্ড মসজিদ) বর্ধিতাংশের নির্মাণ কাজের সময় ছাদ থেকে ক্রেন ভেঙে পড়ে অন্তত ১০৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৩৮। হতাহতদের বেশিরভাগই হজযাত্রী। আহতদের মধ্যে ৪০ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। চলতি মাসের শেষ দিকে পবিত্র হজ পালনে লাখো মুসল্লি জড়ো হতে শুরু করেছেন মক্কায়। পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে এতো বড় দুর্ঘটনা ঘটলো হজ নগরীর প্রাণকেন্দ্র মসজিদ আল হারামে।
সৌদির বেসামরিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম খালিজ টাইমস এ খবর দিয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, মক্কায় মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষণ আগে থেকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। নামাজের পর থেকে ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্রেনটি হঠাৎ ছাদ ভেঙে মসজিদে পড়লে তার নিচে চাপা পড়ে কমপক্ষে ১০৮ জন নিহত হন। আহত হন আরও ২ শতাধিক। এদের মধ্যে অধিকাংশই হজযাত্রী।
আহতদের মধ্যে ৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী রয়েছেন বলে জানান জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল (হজ) আসাদুজ্জামান।
তিনি আরও জানান, আহত ৩০ বাংলাদেশিকে মক্কার জায়েদ হাসপাতাল এবং ১০ জনকে জিয়াদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বদরগঞ্জের চান মিয়া নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে জিয়াদ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। এছাড়া, দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এমনিতেই মসজিদ আল হারামে মুসল্লিদের ভিড় থাকে। এর মধ্যে হজ মৌসুম হওয়ায় শুক্রবার মুসল্লির সমাগম ছিল আরও বেশি।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হজের ইহরাম পরিহিত রক্তাক্ত পূণ্যার্থীদের দেহ কংক্রিটের স্তূপের মধ্যে পড়ে আছ। পড়ে আছে ছাদ ভেঙে ছিঁড়ে পড়া লাল রঙের বিশাল ক্রেনটির অংশবিশেষও।
এ দুর্ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মক্কার গভর্নর যুবরাজ খালেদ আল ফয়সাল। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় শোকও জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় জরুরি উদ্ধারকারী বাহিনী। এখন উদ্ধার তৎপরতা চলছে বলে জানানো হচ্ছে।
একসঙ্গে ২২ লাখ মুসল্লিকে জায়গা দিতে মসজিদ এলাকা চার লাখ বর্গমিটার বাড়ানোর কাজ চলছিল। এ কারণে মসজিদের বিভিন্ন দিকে ভারী ভারী ক্রেনে কাজ চলছিল। ওই ক্রেনগুলোর একটিই ভেঙে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটলো।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস