পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রচুর পরিমাণে ইলিশের পোনা বিক্রি হচ্ছে। অনেক জেলে সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল দিয়ে এসব পোনা ধরছেন।
উপকূলীয় এলাকার মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা, দুলাসারসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঝুড়ি বা সাজিতে করে চাপিলা নাম দিয়ে ইলিশের দেড়-দুই ইঞ্চি লম্বা পোনা বিক্রি করা হচ্ছে। আবার হোগলার ওপর স্তূপ করেও বিক্রি করা হচ্ছে। চাপিলা নাম দিয়ে বাজারে এ পোনা বিক্রি করা হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। কয়েক জায়গায় ৪০ টাকা দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে মাছ ব্যবসায়ীরা জাটকা ২৭০ টাকা কেজিতে কিনে বাজারে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
একাধিক জেলে জানান, প্রজননকালে ইলিশ উপকূলের কাছাকাছি ডিম ছেড়েছে। এখন ওই সব ইলিশের পোনা জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, আন্ধারমানিক, রাবনাবাদ নদ এবং সাগরের অগভীর এলাকায় প্রতিদিন জেলেরা সূক্ষ্ম ফাঁসের বেড় জাল ও মশারি জাল পেতে এসব পোনা ধরছেন।
লালুয়ার চাড়িপাড়া এলাকার জেলে নয়া মিয়া জানান, 'জাল হালাইলেই মণকে মণ ইলিশের পোনা উইট্যা আয়। জালে বাইজ্যা যে পরিমাণ পোনা মরে, হ্যাতে মোগো ধারেও মায়া লাগে।'
কুয়াকাটা এলাকার কয়েকজন জেলে জানান, তারা মাছ ধরতে গেলেই জালে পোনা আটকা পড়ছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই। এভাবে সেগুলো তারা বাজারে বিক্রিও করে দিচ্ছেন।
কলাপাড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, সূক্ষ ফাঁসের জাল দিয়ে ইলিশের পোনা নিধন বন্ধে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলীপুর-কুয়াকাটা মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, কয়েক দিন আগে ইলিশের ছাড়া পোনা এখন উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ওই পোনার বয়স ১০ থেকে ১৫ দিন হয়েছে। জেলেদের জালে ওই পোনাগুলোই ধরা পড়ছে।
মহিপুর মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী জানান, প্রজননকাল হেরফের হয়েছে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, মা ইলিশ এখনো ডিম ছাড়ছে। তাই আমরা মনে করি, আগামী বছর মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিন থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত শিকার বন্ধ রাখলে ইলিশ রক্ষার উদ্যোগ সফল হবে।
কলাপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক জানান, ইলিশ ধরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কিছু কিছু মাছ এখনো ডিম ছাড়েনি। হয়তো একটু দেরি করে এসব ইলিশ ডিম ছাড়বে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে অবশ্যই এ বিষয়টি আনা হবে।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস